🔥 অমঙ্গল ও দারিদ্র্য দূরীকরণ: অলক্ষ্মী বিদায় বিধি
কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার পূর্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লৌকিক আচার হলো **"অলক্ষ্মী বিদায়"**। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আসন প্রতিষ্ঠার পূর্বে গৃহের দারিদ্র্য, অমঙ্গল ও অশুভ শক্তিকে দূর করতে এই প্রথা পালন করা আবশ্যক।
- প্রস্তুতি: পূজার দিন সন্ধ্যায় বাড়ির গৃহিণীরা গোবর ও লাল রঙ দিয়ে অলক্ষ্মীর একটি প্রতিকৃতি (পুতুল) তৈরি করেন এবং তা কলার পেটোর (বাকল) ওপর স্থাপন করেন।
- বিদায় পর্ব: সন্ধ্যার প্রাক্কালে সেই মূর্তিটিকে বাড়ির উঠোন বা পেছনের দরজা দিয়ে সীমানার বাইরে তেমাথায় (তিন রাস্তার মোড়ে) রেখে আসতে হয়।
- ভাঙা কুলো বাজানো: মূর্তিটি নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির মহিলারা একটি ভাঙা কুলো বা টিনের পাত্র পিটিয়ে তীব্র শব্দ করতে করতে যান। এই সময় সমবেত কণ্ঠে বলতে হয়: "অলক্ষ্মী বাইরে যা, লক্ষ্মী ঘরে আয়"।
- শুদ্ধ হওয়া: মূর্তিটি নির্জন স্থানে রেখে আসার পর কুলোটি ভেঙে ফেলা হয় এবং পাটকাঠিতে আগুন জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়। এরপর গৃহিণীরা সটান বাড়ি ফিরে আসেন এবং হাত-পা ধুয়ে জামাকাপড় বদলে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে তবেই মূল লক্ষ্মী পূজা শুরু করেন।
💰 ধনের দেবতা কুবের পূজা ও বিশেষ মন্ত্র
মা লক্ষ্মী সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী এবং কুবের দেব হলেন দেবালয়ের ধনাধ্যক্ষ। তাই লক্ষ্মী পূজার দিন কুবের দেব এবং গণেশ ঠাকুরের পূজা ও ধ্যান করাকে পরম কল্যাণকর মনে করা হয়। এতে উপার্জিত অর্থ সুরক্ষিত থাকে এবং সৎকাজে ব্যবহৃত হয়।
"ওম যক্ষায় কুবেরায় বৈশ্রবণায় ধনধান্যাধিপতয়ে ধনধান্যসমৃদ্ধি মে দেহি দাপয় স্বহা॥"
⭐ ভাগ্য ফেরাতে রাশি অনুযায়ী জ্যোতিষীয় টোটকা ও দান
কোজাগরী পূর্ণিমার পুণ্য তিথির রাতে মহাজাগতিক ও চন্দ্রের ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী রাশিভিত্তিক এই সামান্য প্রতিকার অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে:
| রাশি সমূহ | বিশেষ নিয়ম / শুভ উপাচার |
|---|---|
| মেষ, সিংহ, ধনু | দেবী লক্ষ্মীর চরণে তাজা লাল পদ্ম ফুল এবং বাড়িতে তৈরি ক্ষীরের মিষ্টি অর্পণ করুন। |
| বৃষ, কন্যা, মকর | পূজার থালায় বা ঘটে একটি রুপোর কয়েন অথবা একটি পরিষ্কার সমুদ্র শাঁখ (কড়ি) রাখুন। |
| মিথুন, তুলা, কুম্ভ | পূজা চলাকালীন মায়ের চরণে পাঁচটি গোমতী চক্র উৎসর্গ করে পূজার শেষে তা ক্যাশবাক্সে রেখে দিন। |
| কর্কট, বৃশ্চিক, মীন | তুলসীতলায় ও বাড়ির চারকোণে খাঁটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান এবং মধ্যরাতে একমনে কনকধারা স্তোত্র পাঠ করুন। |
🏡 খাঁটি লৌকিক বিশ্বাস ও প্রাচীন লোকচার
কোজাগরী পূজার রাতে বাড়ির সমস্ত চালের ড্রাম বা রান্নার চাল রাখার পাত্র সম্পূর্ণ ভর্তি করে রাখতে হয়। কোনো পাত্র খালি রাখা অত্যন্ত অশুভ ও অমঙ্গলের প্রতীক বলে মনে করা হয়।
বাড়ির প্রধান চারকোণে এবং তুলসীমঞ্চের বেদীতে সন্ধ্যার পর থেকেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করুন। এই শুভ প্রদীপগুলি যেন পূর্ণিমার সারারাত ধরে নির্বাপিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।