🌊

তর্পণ বিধি ও মন্ত্রাবলী

পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তিল-জল অর্পণের প্রাচীন প্রথা ও পবিত্র সংস্কৃত মন্ত্র।

তর্পণের মুখ্য নিয়মাবলী

  • উপবাস: তর্পণ কাজ শেষ করার আগে পর্যন্ত অভুক্ত থাকতে হয়। তর্পণ শেষে অন্ন বা আহার গ্রহণ করার নিয়ম।
  • বস্ত্র পরিধান: পুরুষদের ক্ষেত্রে কেবল ধুতি বা উত্তরীয় পরিধান করে জলাশয়ে নামা বাঞ্ছনীয় (শরীরের উপরিভাগ উন্মুক্ত রাখা হয়)।
  • জলাঞ্জলি স্থান: পবিত্র গঙ্গা বা নিকটবর্তী কোনো বহমান নদীর জলে নেমে পূর্বমুখী হয়ে তর্পণ সম্পন্ন করতে হয়।
  • তিল ও কুশ: তর্পণের জন্য জল ও কালো তিল অপরিহার্য সামগ্রী। তর্পণের জল দান করার সময় কুশ বা কুশাঙ্গুরী ধারণ করা শুভ।

তর্পণের সহজ ধাপে ধাপে পদ্ধতি

  1. প্রথমে স্নান করে পবিত্র মনে জল ও তিল হাতে নিয়ে আচমন করুন ও মনে মনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করুন।
  2. দুই হাত অঞ্জলিবদ্ধ করে সেই অঞ্জলিতে গঙ্গাজল, তিল এবং লাল ফুল নিয়ে জল দান করুন।
  3. দেবতাদের উদ্দেশ্যে আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে জল দান করবেন, ঋষিদের উদ্দেশ্যে হাতের মধ্যভাগ দিয়ে এবং পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে বুড়ো আঙ্গুলের দিক দিয়ে কাত করে জল ফেলবেন (পিতৃতীর্থ)।
  4. প্রতিটি অঞ্জলি প্রদানের সময় ভক্তিভরে প্রণাম জানান এবং মন্ত্রোচ্চারণ করুন।

পবিত্র তর্পণ মন্ত্র ও সরল বাংলা অর্থ

১. পিতৃতর্পণ মন্ত্র (পিতা ও বংশধরদের উদ্দেশ্যে)

"ॐ তৃপ্যতাম সূর্যকান্তঃ, তৃপ্যতাম সর্বপিতরঃ নমঃ।"

সরল অর্থ: আমি এই পবিত্র তিল-জল আমার প্রয়াত পিতা, পিতামহ ও সমস্ত পিতৃপুরুষের সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করছি। তাঁরা তৃপ্ত হোন।

২. সর্বভূত তর্পণ মন্ত্র (সমগ্র জীবকুলের উদ্দেশ্যে)

"ॐ আব্রহ্মভুবনাল্লোকাহ দেবর্ষি পিতৃ মানবাঃ।
তৃপ্যন্তু পিতরঃ সর্বে মদ্দত্তেনাম্বুসাধুনা।।"

সরল অর্থ: সৃষ্টি জগতের পরমপিতা ব্রহ্মা থেকে শুরু করে একটি সামান্য ঘাসের ডগা পর্যন্ত—সমগ্র জগতের দেবগণ, ঋষিগণ, মানবকুল এবং আমার পরলোকগত পিতৃপুরুষগণ আমার প্রদত্ত এই জলে তৃপ্ত হোন।

© 2026 আমার পশ্চিমবঙ্গ সেবা পোর্টাল • শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।