তর্পণের মুখ্য নিয়মাবলী
- উপবাস: তর্পণ কাজ শেষ করার আগে পর্যন্ত অভুক্ত থাকতে হয়। তর্পণ শেষে অন্ন বা আহার গ্রহণ করার নিয়ম।
- বস্ত্র পরিধান: পুরুষদের ক্ষেত্রে কেবল ধুতি বা উত্তরীয় পরিধান করে জলাশয়ে নামা বাঞ্ছনীয় (শরীরের উপরিভাগ উন্মুক্ত রাখা হয়)।
- জলাঞ্জলি স্থান: পবিত্র গঙ্গা বা নিকটবর্তী কোনো বহমান নদীর জলে নেমে পূর্বমুখী হয়ে তর্পণ সম্পন্ন করতে হয়।
- তিল ও কুশ: তর্পণের জন্য জল ও কালো তিল অপরিহার্য সামগ্রী। তর্পণের জল দান করার সময় কুশ বা কুশাঙ্গুরী ধারণ করা শুভ।
তর্পণের সহজ ধাপে ধাপে পদ্ধতি
- প্রথমে স্নান করে পবিত্র মনে জল ও তিল হাতে নিয়ে আচমন করুন ও মনে মনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করুন।
- দুই হাত অঞ্জলিবদ্ধ করে সেই অঞ্জলিতে গঙ্গাজল, তিল এবং লাল ফুল নিয়ে জল দান করুন।
- দেবতাদের উদ্দেশ্যে আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে জল দান করবেন, ঋষিদের উদ্দেশ্যে হাতের মধ্যভাগ দিয়ে এবং পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে বুড়ো আঙ্গুলের দিক দিয়ে কাত করে জল ফেলবেন (পিতৃতীর্থ)।
- প্রতিটি অঞ্জলি প্রদানের সময় ভক্তিভরে প্রণাম জানান এবং মন্ত্রোচ্চারণ করুন।
পবিত্র তর্পণ মন্ত্র ও সরল বাংলা অর্থ
১. পিতৃতর্পণ মন্ত্র (পিতা ও বংশধরদের উদ্দেশ্যে)
"ॐ তৃপ্যতাম সূর্যকান্তঃ, তৃপ্যতাম সর্বপিতরঃ নমঃ।"
সরল অর্থ: আমি এই পবিত্র তিল-জল আমার প্রয়াত পিতা, পিতামহ ও সমস্ত পিতৃপুরুষের সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করছি। তাঁরা তৃপ্ত হোন।
২. সর্বভূত তর্পণ মন্ত্র (সমগ্র জীবকুলের উদ্দেশ্যে)
"ॐ আব্রহ্মভুবনাল্লোকাহ দেবর্ষি পিতৃ মানবাঃ।
তৃপ্যন্তু পিতরঃ সর্বে মদ্দত্তেনাম্বুসাধুনা।।"
সরল অর্থ: সৃষ্টি জগতের পরমপিতা ব্রহ্মা থেকে শুরু করে একটি সামান্য ঘাসের ডগা পর্যন্ত—সমগ্র জগতের দেবগণ, ঋষিগণ, মানবকুল এবং আমার পরলোকগত পিতৃপুরুষগণ আমার প্রদত্ত এই জলে তৃপ্ত হোন।