🦁

জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাস ও বিধি

ঐতিহাসিক সূচনা, সাংস্কৃতিক আলো ও পূজা উদযাপনের শাস্ত্রীয় নিয়মাবলী।

ঐতিহাসিক রাজকীয় সূচনা

বাংলায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা অষ্টাদশ শতকে নদীয়ার কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের হাত ধরে হয়েছিল। জনশ্রুতি আছে, নবাব আলীবর্দী খাঁর আমলে রাজকর দিতে না পারায় কৃষ্ণচন্দ্র বন্দী হন। বিজয়া দশমীর দিন তিনি যখন মুক্তি পান, তখন দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়ে গেছে। অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে ফেরার পথে তিনি স্বপ্নাদেশ পান যে, আসন্ন কার্তিক শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী পূজার আয়োজন করলে তাঁর দুঃখ দূর হবে। সেই রাজকীয় পূজা পরবর্তীকালে ফরাসি শাসিত চন্দননগরে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

চন্দননগরের আলোর জাদু

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজার প্রধান আকর্ষন হল এর বিশাল ত্রিমাত্রিক আলোকসজ্জা। স্থানীয় দক্ষ শিল্পীরা কাঠের ফ্রেমের উপর হাজার হাজার টুনি বাল্ব ব্যবহার করে চলমান নকশা ফুটিয়ে তোলেন। এই আলো প্যানেলগুলিতে সামাজিক সচেতনতা, সমসাময়িক ঘটনা, রূপকথা ও ঐতিহাসিক ঘটনার চমৎকার চলমান রূপ দেখানো হয়, যা এই শহরকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছে।

পূজার শাস্ত্রীয় নিয়ম ও পদ্ধতি

দুর্গাপূজা চার দিন ধরে চললেও শাস্ত্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা মূলত একদিনেই (শুক্লা নবমী তিথিতে) সম্পন্ন করা হয়। এই পূজাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: সকালে সপ্তমী পূজা, মধ্যাহ্নে অষ্টমী পূজা এবং অপরাহ্নে বা সন্ধ্যায় নবমী পূজা। তবে বর্তমানে অনেক বারোয়ারি পূজায় দুর্গাপূজার মতোই চার দিন ধরে মণ্ডপে উৎসব চলে। পূজার দিন উপবাস ব্রত পালন করা হয় এবং মাকে লাল ফল, মিষ্টি ও হলুদ বস্ত্র অর্পণ করা বিধি।

© 2026 আমার পশ্চিমবঙ্গ সেবা পোর্টাল • শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।