🦁

জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাস ও বিধি

পূজার শুরু কোথায়, চন্দননগরের আলো কীভাবে, আর শাস্ত্রের নিয়ম কী।

রাজবাড়ি থেকে শুরু

বাংলায় জগদ্ধাত্রী পূজার শুরু অষ্টাদশ শতকে, নদীয়ার কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের হাত ধরে। জনশ্রুতি বলে, নবাব আলীবর্দী খাঁর আমলে রাজকর দিতে না পারায় কৃষ্ণচন্দ্র বন্দী হন। ছাড়া পান বিজয়া দশমীর দিন — দুর্গাপূজা তখন শেষ। মনখারাপ নিয়ে ফেরার পথে তিনি স্বপ্নাদেশ পান: আসন্ন কার্তিক শুক্লা নবমীতে জগদ্ধাত্রী পূজা করলে এই দুঃখ ঘুচবে। সেই রাজবাড়ির পুজো, প্রচলিত মতে ১৭৬২ সালের, পরে ফরাসি শাসনের চন্দননগরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে আলীবর্দী মারা যান ১৭৫৬ সালে, তাই গল্পটা হুবহু সত্যি হতে পারে না। কোনও কোনও সংস্করণে পরের এক নবাবের নাম আসে।

চন্দননগরের আলোর জাদু

চন্দননগরের পূজার আসল আকর্ষণ এর ত্রিমাত্রিক আলোকসজ্জা। স্থানীয় শিল্পীরা কাঠের ফ্রেমের উপর হাজার হাজার টুনি বাল্ব বসিয়ে চলমান নকশা ফোটান। সেই আলোর প্যানেলে ফুটে ওঠে সামাজিক সচেতনতা, সমসাময়িক ঘটনা, রূপকথা, ইতিহাস। এই আলোই শহরটাকে বিশ্বজুড়ে চিনিয়েছে।

পূজার শাস্ত্রীয় নিয়ম ও পদ্ধতি

দুর্গাপূজা চার দিনের, কিন্তু শাস্ত্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা একদিনেই — শুক্লা নবমী তিথিতে। সেই একদিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সকালে সপ্তমী পূজা, দুপুরে অষ্টমী, আর বিকেল বা সন্ধ্যায় নবমী। তবে এখন অনেক বারোয়ারিতে দুর্গাপূজার মতোই চার দিন ধরে মণ্ডপে উৎসব চলে। পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত উপোস করে থাকার নিয়ম।