🌺

মহানিশীথ পূজা ও কালীপুজোর মন্ত্র

কার্তিক অমাবস্যার রাতে কালীপুজোর যে মন্ত্রগুলি লাগে, অর্থ সমেত।

মহানিশীথ পূজা কেন মধ্যরাতে

কার্তিক অমাবস্যার নিশীথ কাল, অর্থাৎ মধ্যরাত — সৃষ্টির আদিম অন্ধকারের প্রতীক। এই অন্ধকারে পার্থিব সব শক্তি আর অহং মিলিয়ে যায়। দেবী কালী নিজেই কাল বা সময়ের রূপ, সৃষ্টি আর ধ্বংস দুটোরই নিয়ামক। মধ্যরাতের নিস্তব্ধতায় মায়ের আরাধনা করলে মনের ভয়, মৃত্যুভয় আর অহংকার কাটে। এই রাতের বিধান রক্তজবা, নৈবেদ্য আর প্রদীপ — সঙ্গে মায়ের ধ্যান ও মন্ত্রজপ।

কালীপুজোর প্রধান মন্ত্র (বাংলা অর্থসহ)

পূজার সময় পুষ্পাঞ্জলি দিতে আর প্রণাম করতে যে মন্ত্রগুলি লাগে, নীচে দেওয়া হল:

১. শ্রী শ্রী কালী ধ্যান মন্ত্র

"ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাম্।
কালিকাং দক্ষিণাং দিব্যাং মুণ্ডমালাবিভূষিতাম্।।"

সরলার্থ: আমি করালবদনা, আলুলায়িত কুন্তলা (খোলা চুল), চতুর্ভুজা, দিব্য রূপশালিনী এবং গলায় মুণ্ডমালা পরিহিতা দক্ষিণাকালিকার ধ্যান করি।

২. পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র

"ওঁ পুষ্পাঞ্জলিং শ্রীমদ্দক্ষিণকালিকায়ৈ নমঃ।"

সরলার্থ: পরম ঐশ্বর্যময়ী দক্ষিণাকালিকার চরণে আমাদের এই পুষ্পাঞ্জলি নিবেদিত হোক। দেবী আমাদের প্রণাম গ্রহণ করুন।

৩. প্রণাম মন্ত্র

"ওঁ জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোঽস্তু তে।।"

সরলার্থ: যিনি জয়যুক্তা, মঙ্গলা, কালী, ভদ্রকালী, কপালিনী, দুর্গা, শিবা, ক্ষমা, ধাত্রী, স্বাহা এবং স্বধা—সেই জগৎজননী দেবীকে আমি প্রণাম জানাই।