মহানিষীথ পূজার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
কার্তিক অমাবস্যার নিশীথ কাল বা মধ্যরাত হলো সৃষ্টির আদিম অন্ধকারের প্রতীক, যেখানে সমস্ত পার্থিব শক্তি ও অহং বিলীন হয়ে যায়। দেবী কালী হলেন কাল বা সময়ের প্রতীক, যিনি মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও ধ্বংসের নিয়ামক। মধ্যরাতের নিস্তব্ধতায় ও অন্ধকার প্রহরে মায়ের আরাধনা করলে মনের ভয়, মৃত্যুভীতি এবং অহংকার দূর হয়। এই রাতে রক্তজবা ফুল, নৈবেদ্য ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে মায়ের ধ্যান ও মন্ত্র জপ করার বিধান রয়েছে।
শ্রী শ্রী কালী পূজার প্রধান মন্ত্রাবলী (বাংলা অর্থসহ)
পূজার সময় মায়ের উদ্দেশ্যে মন্ত্র উচ্চারণপূর্বক পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ এবং প্রণাম করার জন্য শাস্ত্রীয় মন্ত্রাবলী নিচে দেওয়া হলো:
"ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাম্।
কালিকাং দক্ষিণাং দিব্যাং মুণ্ডমালাবিভূষিতাম্।।"
সরলার্থ: আমি করালবদনা, আলুলায়িত কুন্তলা (খোলা চুল), চতুর্ভুজা, দিব্য রূপশালিনী এবং গলায় মুণ্ডমালা পরিহিতা দক্ষিণাকালিকার ধ্যান করি।
"ওঁ পুষ্পাঞ্জলিং শ্রীমদ্দক্ষিণকালিকায়ৈ নমঃ।"
সরলার্থ: পরম ঐশ্বর্যময়ী দক্ষিণাকালিকার চরণে আমাদের এই পুষ্পাঞ্জলি নিবেদিত হোক। দেবী আমাদের প্রণাম গ্রহণ করুন।
"ওঁ জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোঽস্তু তে।।"
সরলার্থ: যিনি জয়যুক্তা, মঙ্গলা, কালী, ভদ্রকালী, কপালিনী, দুর্গা, শিবা, ক্ষমা, ধাত্রী, স্বাহা এবং স্বধা—সেই জগৎজননী দেবীকে আমি প্রণাম জানাই।