🏺

ধুনুচি নাচ ও সিঁদুর খেলা

পুজোর দুটো লোকাচার — একটায় আগুন, একটায় সিঁদুর।

ধুনুচি নাচ: ঢাকের তালে আগুন হাতে

ধুনুচি নাচ হয় সন্ধ্যারতির সময়। বিশেষ করে মহাষ্টমী আর মহানবমীর সন্ধ্যায়, ঢাকের তালে তালে, মণ্ডপে মণ্ডপে এই নাচের আসর বসে। ধুনুচি জিনিসটা মাটির পাত্র। তার ভিতরে থাকে জ্বলন্ত কয়লা, নারকেলের ছোবড়া, আর কর্পূরের গুঁড়ো বা ধুনো।

দুই হাতে, কখনও মুখে কামড়ে ধরে জ্বলন্ত ধুনুচি নিয়ে নাচেন ছেলে-বুড়ো সবাই। ভারসাম্যটাই আসল খেলা। ধুনুচির ধোঁয়ায় চারপাশ পবিত্র হয়, আর এই নাচ মায়ের চরণে নিজেকে সমর্পণ করার প্রকাশ।

সিঁদুর খেলা: বিদায়ের আগে শেষ আচার

সিঁদুর খেলা হল বিজয়া দশমীর মূল আকর্ষণ। বিসর্জনের ঠিক আগে বিবাহিত মহিলারা মায়ের সিঁথিতে আর চরণে সিঁদুর দেন, পান ও মিষ্টিমুখ করান। তারপর নিজেরা একে অপরের কপালে-গালে সিঁদুর মাখিয়ে দেন।

সধবার সিঁথি আর সংসারের মঙ্গল কামনায় এই প্রথা। এর মধ্যে দুটো জিনিস একসঙ্গে থাকে। একদিকে মেয়ে উমা বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামী শিবের ঘরে, কৈলাসে ফিরে যাচ্ছে — সেই মনখারাপ। অন্যদিকে একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে দেওয়ার হুল্লোড়।