🌺

পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্র ও নিয়ম

মা দুর্গার চরণে তিনবার অঞ্জলি, তিনটি আলাদা মন্ত্র, তারপর প্রণাম — সঙ্গে বাংলা অর্থ।

অঞ্জলি দেওয়ার নিয়ম

  • উপবাস: অঞ্জলি দেওয়ার আগে পর্যন্ত নির্জলা উপবাস। জল বা খাবার, কিছুই চলে না।
  • উপকরণ: হাতে থাকবে তাজা ফুল — বেলপাতা, জবা বা গাঁদা। সঙ্গে কুশ, দূর্বা আর চাল।
  • শুচিতা: সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ কাপড়ে — ধুতি বা পাঞ্জাবি, শাড়ি — মণ্ডপে ঢুকতে হয়।

অষ্টমীর অঞ্জলির মন্ত্র

অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে হয় তিনবার, পুরোহিতের সঙ্গে পাঠ করে। প্রতিবারের মন্ত্র আলাদা, আর প্রতিটির শেষে ফুল মায়ের চরণে দেওয়ার সময় "এষ সচন্দন…" নিবেদনের লাইনটি বলা হয়। তিনটি অঞ্জলি শেষ হলে খালি হাতে প্রণাম মন্ত্র।

১. প্রথম অঞ্জলি

"ওঁ মহিষঘ্নি মহামায়ে চামুণ্ডে মুণ্ডমালিনি।
আয়ুরারোগ্যবিজয়ং দেহি দেবি নমোঽস্তু তে॥
এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমো দক্ষযজ্ঞবিনাশিন্যৈ মহাঘোরায়ৈ যোগিনীকোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ॥"

সরল অর্থ: হে মহিষাসুরনাশিনী মহামায়া, হে চামুণ্ডা, হে মুণ্ডমালা পরা দেবী। আমাকে আয়ু, আরোগ্য আর জয় দিন। আপনাকে প্রণাম।

২. দ্বিতীয় অঞ্জলি

"ওঁ সৃষ্টিস্থিতিবিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি।
গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণি নমোঽস্তু তে॥
এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমো দক্ষযজ্ঞবিনাশিন্যৈ মহাঘোরায়ৈ যোগিনীকোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ॥"

সরল অর্থ: সৃষ্টি, স্থিতি আর প্রলয় — তিনেরই শক্তি আপনি, হে সনাতনী। তিন গুণের আশ্রয় আর তিন গুণে গড়া সেই নারায়ণীকে প্রণাম।

৩. তৃতীয় অঞ্জলি

"ওঁ শরণাগতদীনার্তপরিত্রাণপরায়ণে।
সর্বস্যার্তিহরে দেবি নারায়ণি নমোঽস্তু তে॥
এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমো দক্ষযজ্ঞবিনাশিন্যৈ মহাঘোরায়ৈ যোগিনীকোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ॥"

সরল অর্থ: শরণে আসা দীন আর কাতরকে রক্ষা করাই যাঁর ব্রত, যিনি সকলের দুঃখ হরণ করেন — সেই নারায়ণীকে প্রণাম।

অষ্টমীর প্রণাম মন্ত্র

"ওঁ জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোঽস্তু তে॥"

সরল অর্থ: হে সর্বজয়ী, কল্যাণময়ী কালী ও ভদ্রকালী। হে দুর্গা, শিবা, ক্ষমা, ধাত্রী, স্বাহা, স্বধা — আপনাকে প্রণাম।

এটি অঞ্জলি নয়। তিনবার ফুল দেওয়া হয়ে গেলে খালি হাতে এটি বলা হয়, তাই এর সঙ্গে "এষ সচন্দন…" লাইনটি নেই।

এই পাঠ কোথা থেকে

উপরের সেটটি পাঁচটি বাংলা সূত্র মিলিয়ে দেখা। অষ্টমীর তিনটি অঞ্জলি-মন্ত্র নিয়ে সবগুলি একমত। 'সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে' নিয়েও সবগুলি একমত — ওটি অঞ্জলির মন্ত্র নয়, প্রণাম মন্ত্র, আর বেশিরভাগ সূত্রে সেটি সপ্তমীর। তাই এই পাতায় সেটি রাখা হয়নি।

সূত্রগুলি বানান আর পাঠের খুঁটিনাটিতে নিজেদের মধ্যে মেলে না, তাই সংস্কৃত বানান এখানে প্রমিত রূপে লেখা। আপনার মণ্ডপের পুরোহিত যেভাবে পড়ান, সেটিই আপনার জন্য ঠিক।