গাইড · অনলাইনে আসা

বিনামূল্যে কোথায় কোথায় ব্যবসার নাম তুলবেন, আর কোনগুলি আসল

অনলাইনে খুঁজে পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইট বা এজেন্সি লাগে না। লাগে পাঁচ-ছ’টা বিনামূল্যের জায়গায় একই নাম, নম্বর আর ঠিকানা, আর একটা বিকেল।

৪ মিনিটে পড়া · হালনাগাদ

শিলিগুড়ির এক দর্জির কাছে ফোন এল: “স্যার, বছরে মাত্র ৪,৯৯৯ টাকায় আপনার দোকান ২০০টা ওয়েবসাইটে তুলে দেব, গুগলের প্রথম পাতায়, গ্যারান্টি।”

প্রায় দিয়েই ফেলছিলেন। তারপর ভাইপো এক ঘণ্টা বসে, এক পয়সা খরচ না করে, দোকানটা তুলে দিল সেই ছ’টা জায়গায় যেগুলি আসলে কাজের। পুজোর আগে ব্লাউজের অর্ডার আসতে শুরু করল এমন লোকের কাছ থেকে, যাঁরা ফোনে খুঁজে পেয়েছেন।

ওই “২০০টা ওয়েবসাইট”-এর বেশিরভাগই এমন তালিকা, যেখানে কেউ যায় না। স্থানীয় ব্যবসার প্রায় সব কাজ করে হাতে-গোনা কয়েকটা বিনামূল্যের তালিকা, কারণ আপনার শহরের লোক খোঁজেন সেখানেই: গুগল, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, আর দু’-একটা ভারতীয় ডিরেক্টরি।

একটাই নিয়ম: একই নাম, একই নম্বর, একই ঠিকানা

ব্যবসার তথ্য একবার ফোনের নোটে লিখে রাখুন, তারপর প্রতিটা তালিকায় হুবহু সেটাই বসান: সাইনবোর্ডে যে নাম, যে একটা ফোন নম্বর আপনি সবসময় ধরেন, চেনার জায়গা আর পিন কোড-সহ ঠিকানা, আর একই খোলার সময়। সব জায়গায় তথ্য মিললে খদ্দের ভরসা পান, সার্চ ইঞ্জিনও বেশি নিশ্চিত হয় যে এটা একই ব্যবসা। এক জায়গায় “মা তারা ইলেকট্রিক্যালস” আর অন্য জায়গায় “এম টি ইলেকট্রিক ওয়ার্কস” থাকলে, দুটোরই ক্ষতি।

কোথায় তুলবেন, এই ক্রমে

তালিকাখরচকার জন্য সবচেয়ে কাজের
গুগল বিজনেস প্রোফাইলবিনামূল্যেসবার। গুগল ম্যাপস আর “near me” খোঁজে এটাই দেখায়
হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসবিনামূল্যের অ্যাপক্যাটালগ আর নিজে থেকে যাওয়া উত্তর দিয়ে অর্ডার নেওয়া, প্রশ্নের জবাব
ফেসবুক পেজ আর ইনস্টাগ্রাম প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টবিনামূল্যে (বিজ্ঞাপন ঐচ্ছিক)খাবার, পোশাক, পার্লার, ফটোগ্রাফার: কেনার আগে লোকে যা দেখতে চায়
বিং প্লেসেস ফর বিজনেসবিনামূল্যেবিং, আর যে ম্যাপ বা অ্যাসিস্ট্যান্ট এর তথ্য নেয়। কয়েক ক্লিকে গুগল প্রোফাইল থেকে তথ্য তুলে আনা যায়
জাস্টডায়ালবিনামূল্যের তালিকা; বেশি দেখানোর জন্য পেইড প্ল্যানযে পরিষেবায় ফোনে খোঁজ আসে: সারাই, বাড়ি বদল, ক্যাটারার, ডাক্তার
ইন্ডিয়ামার্টবিক্রেতা হিসেবে রেজিস্ট্রেশন বিনামূল্যে; পেইড প্ল্যান আছেপাইকার, উৎপাদক, আর যাঁরা অন্য ব্যবসাকে বেচেন
আমার পশ্চিমবঙ্গের তালিকাবিনামূল্যেপশ্চিমবঙ্গে জেলা আর ধরন ধরে খুঁজে পাওয়া, মেনু বা দামের তালিকা-সহ নিজের পাতা

প্রথম সপ্তাহটা যেমন হতে পারে

  1. প্রথম দিন: গুগল

    গুগল বিজনেস প্রোফাইল বানান বা দাবি করুন, যাচাই শুরু করে দিন। সবচেয়ে বেশি ফোন আসে এখান থেকেই, তাই এটা সবার আগে।

  2. দ্বিতীয় দিন: হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস

    প্রোফাইল আর ক্যাটালগ সাজান, গ্রিটিং আর অ্যাওয়ে মেসেজ চালু করুন।

  3. তৃতীয় দিন: ছবি

    দিনের আলোয় দশটা ভাল ছবি তুলুন: দোকানের সামনেটা, ভেতরটা, আপনার কাজ, দামের বোর্ড। সব জায়গায় এগুলিই লাগবে।

  4. চতুর্থ দিন: ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম

    একই নাম, ছবি আর নম্বর দিয়ে একটা পেজ আর একটা প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট খুলুন। হোয়াটসঅ্যাপ জুড়ে দিন।

  5. পঞ্চম দিন: ডিরেক্টরি

    বিং প্লেসেস (গুগল থেকে তথ্য তুলে), জাস্টডায়ালের বিনামূল্যের তালিকা, আর আমার পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় নাম তুলুন। অন্য ব্যবসাকে বেচলে ইন্ডিয়ামার্টেও।

  6. তারপর: সপ্তাহে দশ মিনিট

    রিভিউ আর মেসেজের উত্তর দিন, একটা ছবি বা অফার দিন, আর পুজো বা ছুটির আগে প্রতিটা তালিকায় খোলার সময় বদলে দিন।

লোকে যা জিজ্ঞেস করেন

ওয়েবসাইট কি লাগবে?

শুরুতে নয়। গুগল বিজনেস প্রোফাইল, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস, আর মেনু বা দামের তালিকা-সহ একটা বিনামূল্যের ডিরেক্টরি পাতা — বেশিরভাগ স্থানীয় খদ্দের যা খোঁজেন, এতেই হয়ে যায়। অনলাইনে বেচতে চাইলে বা অনেক কিছু বোঝানোর থাকলে পরে ওয়েবসাইট কাজে আসে।

কোন তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি খদ্দের আসে?

দোকান বা স্থানীয় পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রায় সবসময় গুগল বিজনেস প্রোফাইল, কারণ লোকে কাছাকাছি কিছু গুগল বা ম্যাপসে খুঁজলে এটাই দেখায়। খাবার আর পোশাকে ইনস্টাগ্রামও সমানে সমানে টক্কর দেয়।

দোকান সরিয়েছি। কী কী বদলাব?

সব তালিকা, একই দিনে, গুগল দিয়ে শুরু করে। ডিরেক্টরিতে পুরনো ঠিকানা পড়ে থাকলে খদ্দের গিয়ে দাঁড়াবেন বন্ধ শাটারের সামনে।

আমার পশ্চিমবঙ্গের তালিকা কি সত্যিই বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। নাম তোলা বিনামূল্যে, প্রতিটা তালিকা দেখানোর আগে যাচাই করা হয়, আর খদ্দের আপনাকে সরাসরি ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করেন; আমরা কোনও কমিশন নিই না।

সত্যি না গল্প?

উত্তর দেখতে দাবিটির উপর ট্যাপ করুন।

“যত বেশি ডিরেক্টরিতে নাম, তত বেশি খদ্দের।”
ভুল ধারণা

লোকে সত্যি যে ক’টা ব্যবহার করে, সেগুলিয় নির্ভুল তথ্য রাখলেই শত শত পরিত্যক্ত তালিকার চেয়ে বেশি কাজ হয় — বিশেষ করে যদি পরিত্যক্তগুলিয় পুরনো নম্বর পড়ে থাকে।

“টাকা দিলে কেউ গুগলের এক নম্বরে আপনার দোকানের গ্যারান্টি দিতে পারে।”
ভুল ধারণা

বিজ্ঞাপন কেনা যায়, তাতে বিজ্ঞাপন লেখা থাকে। সাধারণ ফলাফল কেনা যায় না, তাই তার গ্যারান্টিও কেউ দিতে পারে না।

এবার সবাইকে জানান আপনি আছেন

আমার পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় আপনার দোকান, রান্নাঘর বা পরিষেবার নাম তুলুন। বিনামূল্যে; মেনু বা দামের তালিকা-সহ আপনার নিজের একটা পাতা পাবেন, আর খদ্দের সরাসরি ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করবেন।

কাউকে পাঠান

স্থানীয় দোকানের দরকার মোটামুটি ছ’টা বিনামূল্যের তালিকা, দুশোটা পেইড নয় — যদি প্রতিটায় একই নাম, নম্বর আর ঠিকানা থাকে।

তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন

লেখা: আমার পশ্চিমবঙ্গ। উপরের তারিখে ওপরের সরকারি সূত্রগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। ফি, ফর্ম আর পোর্টাল বদলায়; শেষ কথা সবসময় সরকারি সাইটের। কিছু পুরনো হয়ে গেছে দেখলে আমাদের লিখুন, ঠিক করে দেব।