গাইড · খাবারের ব্যবসা

ঘরের রান্না বিক্রি করবেন? আগে FSSAI রেজিস্ট্রেশন

২০২৬-এ নিয়ম বদলেছে, অথচ নেটে বেশিরভাগ লেখা এখনও পুরনো নিয়মেই আটকে। টিফিন সার্ভিস, ঘরোয়া কেক বা শীতের পিঠে যাঁরা বিক্রি করেন, তাঁদের এখন ঠিক কী লাগবে, তা এখানে।

৫ মিনিটে পড়া · হালনাগাদ

পাশের বাড়ির ছেলেটা চাকরি নিয়ে সল্টলেকে গিয়ে রোজ ম্যাগি খেয়ে আছে। আপনি একদিন ডাল, আলু-পোস্ত আর এক টুকরো রুই পাঠালেন। মাস ফুরোনোর আগেই তার অফিসের আরও ছ’জন বলছে, “আমাদেরও দেবেন?”

অভিনন্দন, আপনি এখন খাবারের ব্যবসা চালান। আইন একটা কথা বলতে চায় — তবে ছোট্ট একটা কথা।

খাবার বানিয়ে, প্যাক করে বা পরিবেশন করে যে কেউ পয়সা নেন, তিনি খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন, ২০০৬-এর আওতায় পড়েন। তাঁর লাগে হয় FSSAI রেজিস্ট্রেশন, নয় FSSAI লাইসেন্স। ঘরোয়া রান্নাঘর, টিফিন সার্ভিস, ছোট মিষ্টির দোকান বা রাস্তার স্টল — প্রায় সবার ক্ষেত্রেই সেটা রেজিস্ট্রেশন। একটা অনলাইন ফর্ম, বছরে সামান্য ফি, আর ১৪ অঙ্কের একটা নম্বর, যা আপনার সব খাবারের প্যাকেটে ছাপবেন।

২০২৬-এ কী বদলাল

১০ মার্চ ২০২৬-এর গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে FSSAI তার লাইসেন্স-রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম বদলেছে। তারপর ১৩ মার্চ ২০২৬-এর আদেশে বিক্রির সীমাও বদলেছে, চালু হয়েছে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে। ছোট বিক্রেতার কাছে তিনটে বদল কাজের:

সূত্র: ২০২৬-এর সংশোধন নিয়ে FSSAI-এর প্রশ্নোত্তর, ২৭ মার্চ ২০২৬। দুগ্ধ কারখানা বা মাংস প্রক্রিয়াকরণের মতো কিছু কাজের নিজস্ব নিয়ম আছে, বিক্রি যত কমই হোক।
কী লাগবেবছরে বিক্রি (১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে)আগে ছিল
রেজিস্ট্রেশন১.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
রাজ্য লাইসেন্স১.৫ কোটির বেশি, ৫০ কোটি পর্যন্ত১২ লক্ষের বেশি, ২০ কোটি পর্যন্ত
কেন্দ্রীয় লাইসেন্স৫০ কোটির বেশি২০ কোটির বেশি
  • সীমা বারো গুণেরও বেশি বেড়েছে। আগে ঘরোয়া রান্নাঘরের বিক্রি বছরে ১২ লক্ষ ছাড়ালেই রাজ্য লাইসেন্স নিতে হত। এখন দেড় কোটি পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনেই চলবে।
  • নবীকরণের ঝামেলা নেই। ১ এপ্রিল ২০২৬ বা তার পরে পাওয়া রেজিস্ট্রেশন আর লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরোয় না, যদি না তা স্থগিত, বাতিল বা ফেরত দেওয়া হয়। বছরের ফি অবশ্য দিতে হয়; চাইলে কয়েক বছরের ফি একসঙ্গেও দেওয়া যায়।
  • নথিভুক্ত হকাররা আপনিই রেজিস্টার্ড। পথবিক্রেতা আইন, ২০১৪ অনুযায়ী যাঁদের হকার সার্টিফিকেট আছে, FSSAI তাঁদের রেজিস্টার্ড বলেই ধরছে। তবে পরিচ্ছন্নতার মূল নিয়মগুলি মানতেই হবে।

আপনার কি লাগবে?

নিজের রাঁধা, প্যাক করা বা মজুত করা খাবারের জন্য পয়সা নিলে, হ্যাঁ। ঘরোয়া টিফিন আর লাঞ্চবক্স, বাড়িতে কেক-বিস্কুট, আচার, বড়ি বা নলেন গুড় বিক্রি, ক্লাউড কিচেন, চায়ের দোকান, মিষ্টির দোকান, বিয়েবাড়ির ক্যাটারার — সবাই এর মধ্যে। ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপে বিক্রি করলেও তাই। আইনের মাথাব্যথা খাবার নিয়ে, দোকানঘর নিয়ে নয়।

আবেদন, ধাপে ধাপে

  1. FoSCoS খুলুন, এটাই সরকারি পোর্টাল

    foscos.fssai.gov.in-এ যান। এটা FSSAI-এর নিজের ব্যবস্থা। যে সাইট “আপনার হয়ে আবেদন” করে দিতে হাজার টাকা চায়, তারাও এই ফর্মই ভরে।

  2. রাজ্য আর ব্যবসার ধরন বাছুন

    রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ বেছে নিন, তারপর বলুন কী করেন — যেমন বাড়ি থেকে খাবার সরবরাহ, বা ছোট খুচরো বিক্রি। আপনার উত্তর আর বিক্রির পরিমাণ দেখে পোর্টাল নিজেই বলে দেয় রেজিস্ট্রেশন লাগবে, না লাইসেন্স।

  3. ফর্ম A ভরুন

    রেজিস্ট্রেশনের ফর্মের নাম ফর্ম A। তাতে চাওয়া হয় আপনার নাম, রান্নাঘরের ঠিকানা, কী খাবার বানান বা বেচেন, আর আন্দাজে বছরে কত বিক্রি।

  4. কাগজ আপলোড করে ফি দিন

    একটা ছবি, আধার বা ভোটার কার্ডের মতো সচিত্র পরিচয়পত্র, আর রান্নাঘরের ঠিকানার প্রমাণ আপলোড করুন। ফি অনলাইনে দিন। রেজিস্ট্রেশনের ফি অনেকদিন ধরে বছরে ১০০ টাকা; ঠিক কত, তা টাকা দেওয়ার আগে পোর্টালেই দেখায়।

  5. সার্টিফিকেটের অপেক্ষা

    দেওয়ার আগে এলাকার ফুড সেফটি অফিসার একবার দেখে যেতে পারেন। FoSCoS-এ আবেদনের অবস্থা দেখতে থাকুন, তারপর ১৪ অঙ্কের নম্বর-সহ সার্টিফিকেট নামিয়ে নিন।

নম্বর পাওয়ার পর

  • প্রতিটি প্যাকেট আর লেবেলে, বিলে আর মেনুতে FSSAI লোগো আর ১৪ অঙ্কের নম্বর দিন।
  • যেখানে রাঁধেন বা বেচেন, সেখানে সার্টিফিকেট টাঙিয়ে রাখুন।
  • ছোট খাবারের ব্যবসার পরিচ্ছন্নতার নিয়ম (২০১১-র বিধির চতুর্থ তফসিল) মানুন: পরিষ্কার জল, ঢাকা খাবার, পরিষ্কার হাত আর বাসন, পোকামাকড় দমন, আর অসুস্থ শরীরে রান্না নয়।
  • বছরের ফি সময়মতো দিন। মেয়াদ যখন আর ফুরোয় না, তখন মনে রাখার জিনিস ওই একটাই।
  • রান্নাঘর বদলালে বা নতুন কিছু বানাতে শুরু করলে FoSCoS-এ তথ্য বদলে নিন।

লোকে যা জিজ্ঞেস করেন

আমি শুধু পৌষ মাসে পিঠে বেচি। তবুও লাগবে?

বিক্রি করলে, হ্যাঁ। মরসুমি ব্যবসাও খাবারের ব্যবসা। ২০২৬-এর এপ্রিল থেকে পাওয়া রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ যেহেতু ফুরোয় না, একবার করে নিলেই হল, তারপর শুধু বছরের ছোট ফি।

২০২৬-এর এপ্রিলের আগে ৫ বছরের সার্টিফিকেট নিয়েছিলাম। এখন কী হবে?

FSSAI জানিয়েছে, পুরনো ব্যবসাগুলিকে FoSCoS-এ নতুন বিক্রি-সীমার শ্রেণিতে সরিয়ে নেওয়া হবে। তার জন্য আলাদা ফি লাগবে না, নম্বরও বদলাবে না। পোর্টালে এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

ট্রেড লাইসেন্সও কি লাগবে?

অনেক ক্ষেত্রে, হ্যাঁ। FSSAI দেখে খাবার নিরাপদ কি না; ট্রেড লাইসেন্স হল ওই জায়গা থেকে ব্যবসা করার জন্য পুরসভা বা পঞ্চায়েতের অনুমতি। দেখুন আমাদের ট্রেড লাইসেন্সের গাইড।

বাংলায় আবেদন করা যায়?

FoSCoS নিজে ইংরেজিতে। যতটা পারেন নিজে ভরুন, বাকিটা কমন সার্ভিস সেন্টার বা কোনও বন্ধু সাহায্য করতে পারেন। ফি দু’ভাবেই এক; সরকারি ফি-র উপর কেউ কিছু যোগ করতে পারেন না।

সত্যি না গল্প?

উত্তর দেখতে দাবিটির উপর ট্যাপ করুন।

“১২ লক্ষের কম বিক্রি হলে ঘরের রান্নার জন্য FSSAI-এর কিছুই লাগে না।”
ভুল ধারণা

কখনওই এমন ছিল না। ১২ লক্ষ ছিল রেজিস্ট্রেশন আর লাইসেন্সের মধ্যের পুরনো সীমারেখা, কিছু-না-লাগার নয়। ২০২৬-এর এপ্রিল থেকে সেই সীমা দেড় কোটি, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করাতেই হয়।

“FSSAI রেজিস্ট্রেশন কয়েক বছর অন্তর নবীকরণ করাতে হয়।”
আংশিক সত্যি

২০২৬-এর মার্চ পর্যন্ত তাই ছিল। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পাওয়া রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে। পুরনো সার্টিফিকেটগুলি নতুন ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে। বছরের ফি দু’ক্ষেত্রেই দিতে হয়।

“FSSAI রেজিস্ট্রেশনের জন্য দালাল লাগে।”
ভুল ধারণা

রেজিস্ট্রেশনের FoSCoS ফর্ম ছোট, মালিক নিজেই ভরবেন বলেই বানানো। দালাল ধরা ঐচ্ছিক, আর তাঁরা সরকারি ফি-র উপরে নিজের টাকা নেন।

এবার সবাইকে জানান আপনি আছেন

আমার পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় আপনার দোকান, রান্নাঘর বা পরিষেবার নাম তুলুন। বিনামূল্যে; মেনু বা দামের তালিকা-সহ আপনার নিজের একটা পাতা পাবেন, আর খদ্দের সরাসরি ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করবেন।

কাউকে পাঠান

২০২৬-এর এপ্রিল থেকে বছরে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত বিক্রির ঘরোয়া খাবারের ব্যবসা সাধারণ FSSAI রেজিস্ট্রেশনেই চলবে, আর তা আর নবীকরণ করতে হয় না।

তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন

লেখা: আমার পশ্চিমবঙ্গ। উপরের তারিখে ওপরের সরকারি সূত্রগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। ফি, ফর্ম আর পোর্টাল বদলায়; শেষ কথা সবসময় সরকারি সাইটের। কিছু পুরনো হয়ে গেছে দেখলে আমাদের লিখুন, ঠিক করে দেব।