গাইড · লাইসেন্স

ট্রেড লাইসেন্স: কোথায় আবেদন, কী লাগে

সরকারি নাম “সার্টিফিকেট অফ এনলিস্টমেন্ট”। কে দেবে, তা নির্ভর করে দোকানটা কোথায় — কলকাতায়, অন্য শহরে, না গ্রামে।

৪ মিনিটে পড়া · হালনাগাদ

বেহালায় নতুন মোবাইল সারাইয়ের দোকানের শাটার উঠল। দরজায় মালা, ক্যাশবাক্সের পাশে মা কালীর বাঁধানো ছবি, প্রথম খদ্দের ভাঙা স্ক্রিন নিয়ে আগেই দাঁড়িয়ে।

তিন সপ্তাহ পর বরো অফিস থেকে এক ভদ্রলোক এসে সেই প্রশ্নটা করলেন, যেটা প্রত্যেক নতুন দোকানদার ভয় পান: “লাইসেন্স আছে?”

ট্রেড লাইসেন্স হল একটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ব্যবসা, পেশা বা বৃত্তি চালানোর জন্য পুরসভা বা পঞ্চায়েতের অনুমতি। পশ্চিমবঙ্গে এর সরকারি নাম সার্টিফিকেট অফ এনলিস্টমেন্ট (CE); তাই কাগজে “লাইসেন্স”-এর জায়গায় প্রায়ই “এনলিস্টমেন্ট” লেখা থাকে। এটা FSSAI, GST বা উদ্যম থেকে আলাদা। ওগুলি আপনি কী বেচেন আর কীভাবে কর দেন তা নিয়ে; এটা ওই ঠিকানা থেকে ব্যবসা করা নিয়ে।

কে দেবে, তা জায়গার উপর নির্ভর করে

কোন পুরসভা বা পঞ্চায়েতের আওতায় পড়েন, নিশ্চিত না হলে সম্পত্তি করের রসিদে নাম লেখা থাকে।
দোকান কোথায়কে দেয়কোথায় আবেদন
কলকাতা (কলকাতা পুরসভা এলাকা)কলকাতা পুরনিগম, লাইসেন্স বিভাগপুরনিগমের নিজের অনলাইন ব্যবস্থা, kmcgov.in, বা বরো অফিস
অন্য পুরসভা (হাওড়া, বারাসত, কৃষ্ণনগর, শিলিগুড়ি…)সংশ্লিষ্ট পুরসভা বা পুরনিগমঅনলাইনে ই-ডিস্ট্রিক্ট, বা শিল্পসাথী
গ্রাম (গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা)গ্রাম পঞ্চায়েতপঞ্চায়েত অফিস; অনলাইনে হয় কি না সেখানেই জিজ্ঞেস করুন

কলকাতার বাইরে: ই-ডিস্ট্রিক্টে, হাতে-হাতে

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনে এনেছে। আবেদন হয় ই-ডিস্ট্রিক্ট পোর্টালে (লগইনের সময় শিল্পসাথী সিঙ্গল উইন্ডোর বিকল্পও থাকে)। টাকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে যায়, কোনও অফিসারের অনুমোদনের অপেক্ষা ছাড়াই।

  1. ই-ডিস্ট্রিক্টে নাম লেখান

    edistrict.wb.gov.in-এ মোবাইল নম্বর আর OTP দিয়ে রেজিস্টার করুন, একটা ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড বানান।

  2. ট্রেড লাইসেন্সের পরিষেবা বাছুন

    আপনার পুরসভা আর ট্রেড লাইসেন্স (সার্টিফিকেট অফ এনলিস্টমেন্ট) পরিষেবা বেছে ফর্ম ভরুন: আপনার নাম, ব্যবসার নাম, ঠিকানা, আর কী ব্যবসা।

  3. কাগজ আপলোড করুন

    ফর্ম যা চায়, আপলোড করুন। সব ধরনের ব্যবসার জন্য দফতরের একটাই কাগজের তালিকা; পরের অংশের কাগজগুলি স্ক্যান করে রাখুন।

  4. AIN টুকে রাখুন, টাকা দিন

    জমা দিলে একটা অ্যাপ্লিকেশন আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (AIN) পাবেন। তখনই টাকা দিন, বা পরে ট্র্যাকিং পাতা থেকে। ভুল হয়ে গেলে Cancel টিপলে আবেদন খসড়ায় ফিরে যায়, ঠিক করে আবার জমা দেওয়া যায়।

  5. সার্টিফিকেট নামিয়ে নিন

    টাকা দিলেই সার্টিফিকেট তৈরি। প্রিন্ট করে দোকানে টাঙিয়ে রাখুন।

কলকাতায়: পুরনিগমের সার্টিফিকেট অফ এনলিস্টমেন্ট

কলকাতা পুরনিগম আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী কলকাতার লাইসেন্স কলকাতা পুরনিগম নিজেই দেয়। আবেদন kmcgov.in-এর লাইসেন্স অংশে, বা আপনার বরো অফিসে। ফি নির্ভর করে ব্যবসার ধরনের উপর; টাকা দেওয়ার আগে দেখায়। CE প্রতি বছর নবীকরণ করতে হয়। পুরনিগম একটা ডিমান্ড পাঠায়, তাতে লেখা থাকে বিনা জরিমানায় নবীকরণের শেষ তারিখ। তার পরে দিলে বাড়তি টাকা লাগে, তাই ডিমান্ড এলেই নবীকরণ সেরে ফেলুন।

যা হাতের কাছে রাখবেন

  • আপনার সচিত্র পরিচয়পত্র আর ঠিকানার প্রমাণ: আধার, ভোটার কার্ড বা প্যান।
  • একটা পাসপোর্ট মাপের ছবি।
  • জায়গাটা ব্যবহারের অধিকারের প্রমাণ: নিজের হলে দলিল, ভাড়া হলে ভাড়ার চুক্তি বা বাড়িওয়ালার সম্মতিপত্র।
  • ওই জায়গার সাম্প্রতিক সম্পত্তি করের রসিদ।
  • অংশীদারি বা কোম্পানি হলে: পার্টনারশিপ ডিড বা কোম্পানির নথি, আর যিনি সই করবেন তাঁর পরিচয়পত্র।
  • খাবারের ব্যবসা হলে: আপনার FSSAI রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স। দেখুন আমাদের FSSAI গাইড।

লোকে যা জিজ্ঞেস করেন

আমি বাড়ি থেকে কাজ করি: টিউশন, সেলাই, রান্না। লাগবে?

পুরসভা আর ব্যবসার ধরনের উপর নির্ভর করে। অনেক পুরসভা যে কোনও জায়গা থেকে ব্যবসা চালালেই CE চায়, বাড়ি হলেও। পুরসভা বা পঞ্চায়েত অফিসে জিজ্ঞেস করুন; জিজ্ঞেস করতে পয়সা লাগে না। ব্যাংক বা ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবসার প্রমাণ চাইলেও CE কাজে আসে।

ট্রেড লাইসেন্স আর GST রেজিস্ট্রেশন কি একই?

না। GST কেন্দ্র আর রাজ্যের করের রেজিস্ট্রেশন, লাগে বিক্রি একটা সীমা ছাড়ালে বা কিছু বিশেষ ব্যবসায়। ট্রেড লাইসেন্স হল আপনার ঠিকানা থেকে ব্যবসা করার স্থানীয় অনুমতি। বহু ছোট দোকানের ট্রেড লাইসেন্স আছে, GST নেই।

দোকান সরালে কি নতুন লাইসেন্স লাগবে?

হ্যাঁ। সার্টিফিকেট জায়গার সঙ্গে বাঁধা। নতুন ঠিকানা যে পুরসভা বা পঞ্চায়েতের আওতায়, সেখানে নতুন করে আবেদন করুন।

নবীকরণের তারিখ পেরিয়ে গেলে কী হয়?

ফি-র উপর জরিমানা দিতে হয়, আর নবীকরণ না করা পর্যন্ত আপনি বৈধ সার্টিফিকেট ছাড়াই ব্যবসা করছেন। ডিমান্ড বা রিমাইন্ডার এলেই নবীকরণ সেরে ফেলুন।

সত্যি না গল্প?

উত্তর দেখতে দাবিটির উপর ট্যাপ করুন।

“ট্রেড লাইসেন্স পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগে, পুরসভায় বারবার যেতে হয়।”
ভুল ধারণা

কলকাতার বাইরে ই-ডিস্ট্রিক্টে পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স টাকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়ে যায়। কলকাতারও নিজস্ব অনলাইন ব্যবস্থা আছে।

“GST থাকলে ট্রেড লাইসেন্স লাগে না।”
ভুল ধারণা

দুটো আলাদা কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। GST করের রেজিস্ট্রেশন; ট্রেড লাইসেন্স আপনার জায়গা থেকে ব্যবসা করার জন্য পুরসভা বা পঞ্চায়েতের অনুমতি।

এবার সবাইকে জানান আপনি আছেন

আমার পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় আপনার দোকান, রান্নাঘর বা পরিষেবার নাম তুলুন। বিনামূল্যে; মেনু বা দামের তালিকা-সহ আপনার নিজের একটা পাতা পাবেন, আর খদ্দের সরাসরি ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করবেন।

কাউকে পাঠান

পশ্চিমবঙ্গের পুরসভায় ই-ডিস্ট্রিক্টে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করলে টাকা দেওয়ার মুহূর্তেই সার্টিফিকেট। লাইন নেই, দালাল নেই।

তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন

লেখা: আমার পশ্চিমবঙ্গ। উপরের তারিখে ওপরের সরকারি সূত্রগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। ফি, ফর্ম আর পোর্টাল বদলায়; শেষ কথা সবসময় সরকারি সাইটের। কিছু পুরনো হয়ে গেছে দেখলে আমাদের লিখুন, ঠিক করে দেব।