বাংলা ধাঁধা

বাংলা ধাঁধা, উত্তর সহ

লোডশেডিংয়ের সন্ধে, বিয়েবাড়ির বাসর, শীতের ছাদ — বাঙালির আড্ডা কখনও ধাঁধা ছাড়া জমেনি। এখানে ৩৬টি ধাঁধা: কিছু ঠাকুমা-দাদুর মুখে শোনা চিরচেনা, কিছু আমাদের নতুন লেখা। আগে নিজে ভাবুন, তারপর উত্তর দেখুন।

আজকের ধাঁধা

এক চোখ, তবু দেখে না,সুতো ছাড়া চলে না।

উত্তর দেখুন

ছুঁচ

ঠাকুমার ঝুলি থেকে

বন থেকে বেরোল টিয়ে,সোনার টোপর মাথায় দিয়ে।

উত্তর দেখুন

আনারস

সবুজ গা আর মাথায় পাতার মুকুট — ঠিক যেন টোপর পরা টিয়ে।

এক থালা সুপারি,গুনতে পারে না ব্যাপারী।

উত্তর দেখুন

আকাশের তারা

হাত আছে, পা নেই, বুক তার ফাটা,আস্ত মানুষ গিলে খায়, মাথা তার কাটা।

উত্তর দেখুন

জামা

তিন অক্ষরে নাম তার, জলেতে বাস করে,মাঝের অক্ষর বাদ দিলে আকাশেতে ওড়ে।

উত্তর দেখুন

চিতল মাছ

চিতল থেকে ‘ত’ বাদ দিলে চিল!

ঘরের মধ্যে বত্রিশ পাহারাদার,মাঝখানে একা রানি;রানি নড়লে কথা ফোটে,বলো দেখি কে জানি?

উত্তর দেখুন

জিভ

বত্রিশ পাহারাদার হল বত্রিশটা দাঁত।

দাঁত আছে, কামড়ায় না,রোজ সকালে মাথায় চড়ে।

উত্তর দেখুন

চিরুনি

এক চোখ, তবু দেখে না,সুতো ছাড়া চলে না।

উত্তর দেখুন

ছুঁচ

সবুজ ঘরে সাদা দেওয়াল,দেওয়াল ঘেরা মিষ্টি জল।

উত্তর দেখুন

ডাব

রান্নাঘরের ধাঁধা

জামার উপর জামা পরা,খুলতে গেলেই চোখে জল।

উত্তর দেখুন

পেঁয়াজ

সাদা চাঁদ গরম তেলেপড়লে ফুলে ঢোল।

উত্তর দেখুন

লুচি

রুপোলি গা, কাঁটায় ভরা,বর্ষায় সে নদীতে আসে;সর্ষেবাটায় রাঁধলে তাকেবাঙালি খুশিতে ভাসে।

উত্তর দেখুন

ইলিশ মাছ

সাদা, গোল, রসে ডোবা,কামড় দিলে রস গড়ায়;কোথায় তার জন্ম, তা নিয়েদুই রাজ্যে তর্ক বাধায়।

উত্তর দেখুন

রসগোল্লা

বাংলা আর ওড়িশা দু’পক্ষই দাবি করে; এখন দুই রাজ্যের রসগোল্লাই আলাদা জিআই ট্যাগ পেয়েছে।

ছোট্ট গাছে রাঙা বউ,ছুঁলেই জ্বলে মুখ।

উত্তর দেখুন

লঙ্কা

মাটির হাঁড়িতে জমে থাকে,উল্টে দিলেও পড়ে না।

উত্তর দেখুন

মিষ্টি দই

অন্তত ভালো দই হলে পড়ে না!

প্রকৃতির ধাঁধা

সারাদিন পিছু পিছু ঘোরে,অন্ধকারে কোথায় হারায়?

উত্তর দেখুন

ছায়া

ছোট্ট গায়ক রাতে গান গায়,গান থামলেই রক্ত খায়।

উত্তর দেখুন

মশা

নেই দরজা, নেই জানালা,তবু ভেতরে থাকে ছানা।

উত্তর দেখুন

ডিম

রাতের মাঠে ছোট্ট লণ্ঠন,উড়ে উড়ে জ্বলে আর নেভে।

উত্তর দেখুন

জোনাকি

আকাশ থেকে নামে, কেউ ধরে রাখতে পারে না,ধানখেতে পড়লে চাষির মুখে হাসি।

উত্তর দেখুন

বৃষ্টি

শুধু বাংলায়

নদীর উপর দাঁড়িয়ে আছে,নাট-বল্টু নেই গায়ে;রোজ লক্ষ মানুষ পার হয়তারই পায়ে পায়ে।

উত্তর দেখুন

হাওড়া ব্রিজ

হাওড়া ব্রিজ জোড়া হয়েছে রিভেট দিয়ে, নাট-বল্টু দিয়ে নয়।

রাস্তায় চলে রেলের মতো,মাথায় তার লম্বা টিকি;দেড়শো বছরের বুড়ো সে,কলকাতা ছাড়া পাবে কি?

উত্তর দেখুন

ট্রাম

মাথার ‘টিকি’ হল ট্রলি পোল, যা উপরের তার থেকে বিদ্যুৎ নেয়। কলকাতায় ঘোড়ায় টানা ট্রাম চালু হয় ১৮৭৩ সালে।

সুতোয় বাঁধা, আকাশে ওড়ে,বিশ্বকর্মা পুজোয় আকাশ জোড়ে।

উত্তর দেখুন

ঘুড়ি

সাগরে তার জন্ম,ফুঁ দিলে গান গায়;সন্ধে হলে ঘরে ঘরেতারই ডাক শোনা যায়।

উত্তর দেখুন

শাঁখ

মাটির শরীর, তেলের পেট,মাথায় জ্বলে আগুন;ভূত চতুর্দশীর রাতেচোদ্দজনে মিলে জ্বলুন।

উত্তর দেখুন

প্রদীপ

ভূত চতুর্দশীর চোদ্দ প্রদীপ নিয়ে আরও পড়ুন।

কাঠির ঘা খেয়ে গান গায়,পুজো এলে পাড়া মাতায়।

উত্তর দেখুন

ঢাক

বৃষ্টি এলে মাথায় ওঠে,রোদ উঠলে খোলে;কাজ ফুরোলে কোণে দাঁড়ায়,বাসে-ট্রামে ভোলে।

উত্তর দেখুন

ছাতা

যত মোছে, তত ভেজে।

উত্তর দেখুন

গামছা

মাথা খাটাও

সকালে চার পায়ে, দুপুরে দু’পায়ে,সন্ধ্যায় তিন পায়ে হাঁটে — কে?

উত্তর দেখুন

মানুষ

শিশু হামাগুড়ি দেয়, বড়রা দু’পায়ে হাঁটে, বুড়ো বয়সে লাঠি লাগে। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ধাঁধা।

জিনিসটা তোমার নিজের,অথচ অন্যরাই বেশি ব্যবহার করে।

উত্তর দেখুন

তোমার নাম

শুধু ওঠে, কখনও নামে না।

উত্তর দেখুন

বয়স

যত এগোবে, তত পিছনে ফেলে যাবে।

উত্তর দেখুন

পায়ের ছাপ

কোন মাসে আঠাশ দিন আছে?

উত্তর দেখুন

সব মাসেই

নাম নিলেই ভেঙে যায়।

উত্তর দেখুন

নীরবতা

যা দেখাও, তাই দেখায়,ডানকে করে বাঁ।

উত্তর দেখুন

আয়না

নাকের উপর বসে থাকে,কান দুটো ধরে।

উত্তর দেখুন

চশমা

কীভাবে খেলবেন

পালা করে একজন ধাঁধা বলবে, বাকিরা আন্দাজ করবে। তিনবারে না পারলে উত্তর বলে দিন — আর যে সবচেয়ে বেশি হারবে, তাকে একটা গান শোনাতে হবে। নিজেদের ধাঁধা বানানোর সহজ উপায়: একটা চেনা জিনিস নিন, তার নাম না বলে দুটো অদ্ভুত সত্যি কথা বলুন, আর শেষে মিল রাখুন।