কৃষ্ণনগরের এক ঘরোয়া রাঁধুনির কাছে খদ্দেরের মেসেজ: “এ সপ্তাহে কী কী রান্না? দাম কত?”
তিনি সব টাইপ করে পাঠালেন। পরের খদ্দেরকে আবার, তার পরের জনকেও। শুক্রবার আসতে আসতে একই সপ্তাহের মেনু চোদ্দোবার টাইপ করা হয়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ ছোট ব্যবসা চলে হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ড আর মুখে-মুখে। তাতে কাজ চলে — যতক্ষণ না কোনও খদ্দের ফোন করার আগে দামটা দেখে নিতে চান, নতুন প্রতিবেশী জানতে চান তাঁর গলিতে ডেলিভারি হয় কি না, কিংবা গুগল প্রোফাইলে একটা লিংক দিতে গিয়ে খেয়াল করেন, দেওয়ার মতো কিছুই নেই। এখানকার তালিকা ঠিক ওই ফাঁকটা ভরায়।
কী পাবেন
নিজের একটা পাতা, শেয়ার করার মতো লিংক-সহ
অনুমোদিত প্রতিটা ব্যবসা পায় নিজের একটা পাতা, তার ঠিকানা তৈরি হয় নাম আর শহর দিয়ে — যেমন mywestbengal.in/businesses/didi-rannaghar-krishnanagar। তাতে থাকে আপনি কী করেন, কোন এলাকায়, খদ্দের এলে ঠিকানা আর খোলার সময়, আর বড় বড় ফোন আর হোয়াটসঅ্যাপ বোতাম।
ওই লিংকটাকেই আপনার ওয়েবসাইট বানান। গুগল বিজনেস প্রোফাইলের ওয়েবসাইটের ঘরে, ইনস্টাগ্রামের বায়োতে, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্রোফাইলে, ভিজিটিং কার্ডে দিন। চ্যাটে পেস্ট করলে আপনার নাম আর কাজ দেখা যায়।
জেলা আর ধরন ধরে খুঁজে পাওয়া
তালিকায় আপনার নাম থাকে আপনার জেলা (২৩টাই), শহর আর কাজের ধরনের নীচে — ইলেকট্রিশিয়ান থেকে ঘরোয়া রান্না পর্যন্ত। খদ্দের “ক্যাটারার” আর “নদিয়া” বাছলেই আপনি সেখানে, নম্বর এক ট্যাপ দূরে।
বিনামূল্যে, কোনও কমিশন নেই
নাম তোলার ফি নেই, প্রতি ফোনে চার্জ নেই, অর্ডারের ভাগ নেই। খদ্দের সরাসরি আপনাকে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করেন; মাঝখানে আমরা নেই। নাম তুলতে অ্যাকাউন্টও লাগে না: তালিকা অনুমোদিত হলে আপনার ইমেল দিয়ে আমরাই একটা অ্যাকাউন্ট খুলে দিই, যাতে নিজেই দেখাশোনা করতে পারেন।
একজন মানুষ দেখে নেন
প্রতিটা তালিকা প্রকাশের আগে একজন মানুষ পড়ে দেখেন, সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে। তাতে ভুয়ো নম্বর আর বাজে বিজ্ঞাপন ঢোকে না — সেই কারণেই খদ্দের তালিকার বাকিদের উপর ভরসা করতে পারেন।
যা হবে না
পরে জানার চেয়ে এখনই বলে রাখা ভাল।
- গুগলের মাথায় তুলে দেবে না। কেউই তা কথা দিতে পারেন না; যিনি দেন, তিনি কিছু বেচছেন। “near me” খোঁজে সবচেয়ে কাজের তালিকা আপনার নিজের বিনামূল্যের গুগল বিজনেস প্রোফাইল।
- আপনার পাতা শেয়ার করার জন্য বানানো, গুগল সার্চের জন্য নয়। আপাতত আমরা আলাদা আলাদা ব্যবসার পাতা গুগলের ইনডেক্সের বাইরে রাখি: আমার পশ্চিমবঙ্গ নতুন সাইট, তালিকা ভরার আগে একটা-করে-নামের শয়ে শয়ে পাতা দিয়ে গুগলকে ভরাতে চাই না। খদ্দের আপনার পাতায় পৌঁছন আপনার দেওয়া লিংক থেকে, তালিকা থেকে, আর যেখানে যেখানে লিংকটা রাখবেন সেখান থেকে।
- হোয়াটসঅ্যাপের জায়গা নেয় না। বরং লোককে আপনার হোয়াটসঅ্যাপেই পাঠায়। তাঁরা আসার আগেই হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস সাজিয়ে রাখুন।
- লাইসেন্স বা যোগ্যতা আমরা যাচাই করি না। তালিকা বলে আপনি আছেন আর কীভাবে যোগাযোগ করা যায় — আমরা আপনাকে সুপারিশ করছি, তা নয়।
কোথায় এটা খাপ খায়
অনলাইনে আপনার উপস্থিতিকে ভাবুন কয়েকটা বিনামূল্যের টুকরো হিসেবে, যারা একে অপরের দিকে আঙুল দেখায়, আর সবকটায় একই নাম, নম্বর, ঠিকানা: গুগল বিজনেস প্রোফাইল সার্চ আর ম্যাপস থেকে লোক আনে; হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসে তাঁরা কথা বলেন; ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে আপনার কাজ দেখা যায়; আর আমার পশ্চিমবঙ্গের পাতায় থাকে মেনু বা দাম, যা ওই তিনটের ওয়েবসাইট-লিংক হিসেবে কাজ করে। পুরো তালিকা, ক্রম-সহ, আছে বিনামূল্যের তালিকাভুক্তির গাইডে।
নাম তুলুন
বাংলা ফর্মটা ভরুন: ব্যবসার নাম, কী করেন, জেলা, শহর আর ফোন নম্বর। মিনিট দুয়েক লাগে।
যাচাইয়ের অপেক্ষা
একজন মানুষ দেখে নেন, সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে। আপনাকে আর কিছু করতে হবে না।
মেনু বা দাম যোগ করুন
আমরা যে অ্যাকাউন্ট খুলে দেব, তাতে সাইন ইন করে মেনু, দাম আর খোলার সময় ভরুন।
লিংকটা সব জায়গায় দিন
গুগল বিজনেস প্রোফাইল, ইনস্টাগ্রামের বায়ো, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্রোফাইল, ভিজিটিং কার্ড, কাউন্টারের QR কোড।
লোকে যা জিজ্ঞেস করেন
কখনও কি টাকা লাগবে?
সাধারণ তালিকা বিনামূল্যেই থাকবে। পরে হয়তো ছবির মতো কিছু ঐচ্ছিক পেইড সুবিধে আসবে, কিন্তু যা চাননি, তার জন্য কখনও টাকা কাটা হবে না।
আমি দুটো কাজ করি। দু’বার নাম তুলব?
হ্যাঁ, একই মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রতিটা ধরনের জন্য একবার করে — যেমন একবার ইলেকট্রিশিয়ান, একবার প্লাম্বার হিসেবে। প্রত্যেকটা নিজের ধরনের নীচে দেখায়।
আমার ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবেন?
যিনিই তালিকা বা আপনার পাতা খোলেন — খদ্দের তো ওভাবেই যোগাযোগ করেন। এমন নম্বর দিন যাতে ফোন এলে আপত্তি নেই। আপনার ইমেল কখনও দেখানো হয় না।
আমি গৃহশিক্ষক। আমার জন্য কি এটা?
শিক্ষকদের আলাদা তালিকা আছে: শিক্ষকদের তালিকায় নাম তুলুন। কোচিং সেন্টার এখানেই, “কোচিং সেন্টার” ধরনে।